সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জগতে বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)। সম্প্রতি আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপটিতে এমন কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে যা প্ল্যাটফর্মটিকে একটি ‘এভরিথিং অ্যাপ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। এখন থেকে ব্যবহারকারীরা একক ইন্টারফেসের মাধ্যমেই লাইভ অডিও, ভিডিও এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের সব সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
সমন্বিত অভিজ্ঞতা ও নতুন ইতিহাস ট্যাব
এক্স সম্প্রতি তাদের আইওএস সংস্করণে নতুন একটি ‘হিস্ট্রি’ ট্যাব চালু করেছে। এই ট্যাবটির বিশেষত্ব হলো এটি ব্যবহারকারীর বুকমার্ক, লাইক করা পোস্ট, দেখা ভিডিও এবং পড়া আর্টিকেলগুলোকে এক জায়গায় জড়ো করে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের তাদের পছন্দের কনটেন্ট খুঁজে পেতে আর বেগ পেতে হবে না। এই ফিচারের মাধ্যমে এক্স মূলত ব্যবহারকারীর সময় বাঁচাতে এবং অ্যাপের ভেতরে কাটানো সময়কে আরও ফলপ্রসূ করতে চাইছে। আগে এই ফিচারগুলো আলাদা আলাদা বিভাগে থাকায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো।
সেরা ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি চেনার সহজ উপায়
লাইভ অডিও ও ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের বিপ্লব
এক্স-এর ‘স্পেসেস’ ফিচারের মাধ্যমে এখন আরও সহজে লাইভ অডিও আলোচনায় অংশ নেওয়া যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্ল্যাটফর্মটি এখন লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের ওপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে। সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে বড় বড় সংবাদ সংস্থা এখন সরাসরি এক্স অ্যাপ থেকেই ভিডিও স্ট্রিমিং করতে পারছে। ভিডিও ও অডিওর এই সমন্বয় এক্স-কে ইউটিউব বা টুইচের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা এখন আর শুধু টেক্সট পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সরাসরি ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত হচ্ছেন।
সরাসরি বার্তা ও কমিউনিটি বিল্ডিং
ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য ‘ডাইরেক্ট মেসেজ’ বা ডিএম ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা হয়েছে। এখন থেকে বার্তার মাধ্যমে বড় ফাইল শেয়ারিং এবং দ্রুত যোগাযোগের সুবিধা অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসউভয় প্ল্যাটফর্মেই উন্নত করা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কমিউনিটি তৈরির সুবিধা থাকায় ব্যবহারকারীরা সমমনা মানুষের সাথে যুক্ত হতে পারছেন খুব সহজেই। এটি বিশেষ করে প্রফেশনাল এবং গবেষকদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আয়ের পথ
শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, এক্স এখন আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ পোস্ট, ব্লগ এবং সৃজনশীল ভিডিও শেয়ার করে নির্মাতারা বিজ্ঞাপনের লভ্যাংশ বা সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারছেন। ইলন মাস্কের এই নতুন নীতি অনেক ফ্রিল্যান্সার এবং সাংবাদিকদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। এর ফলে এক্স এখন আর কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মেও পরিণত হচ্ছে।

